গাইবান্ধায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সংকট: মহাসড়ক অবরোধে যানজট
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার, কিন্তু গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দুই বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগের রাত পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। এই সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে, যার ফলে উভয় পাশে যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ী ফিলিং স্টেশনের সামনে গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন পরীক্ষার্থী অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয়রাও অংশ নেন। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে উভয় পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকলেও তারা এখনও প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। গত ৩-৪ দিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও সমাধান না পেয়ে উল্টো প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আশ্বাস
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার। ইউএনওর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ইউএনও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, রাতে ইন্টারনেট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কেউ যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে গাফিলতির ঘটনায় শিক্ষক ও বোর্ড সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যান্য বিদ্যালয়েও সংকট
এদিকে একই উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন শিক্ষার্থীও প্রবেশপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান বিভাগসহ এসব শিক্ষার্থী সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রবেশপত্র না পেয়ে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানায়। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমির প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ভুলে ভরা প্রবেশপত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, প্রবেশপত্রে নামের ভুল, ছবির অসামঞ্জস্য, বিভাগ পরিবর্তন, এমনকি অভিভাবকের নামেও ভুল রয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে এমন অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই সংকট শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির চিত্র তুলে ধরছে, যা ভবিষ্যতে এড়াতে জরুরি পদক্ষেপের দাবি রাখে।



