সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একটি সরকারি খালের দখল এবং মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের খুঁটিকাটা-কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়, যাতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের পটভূমি
কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম গত বছর সংক্রান্তির খালটি ইজারা নিয়েছিলেন এবং বর্তমানেও সেটি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শুক্রবার সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ওই খালে মাছ ধরা শুরু করলে আজহারুলের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। এই কেন্দ্র করেই উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহত ও হাসপাতালে ভর্তি
আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন, এবং শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদসহ বেশ কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজিত কিছু বিএনপি কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ নামের এক শিবির কর্মীকে ধাওয়া করে পিটুনি দেয় বলেও জানা গেছে।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের দাবি, খালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল অবৈধভাবে মাছ চাষ করছিলেন। তবে আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মেয়াদের পর নতুন করে ইজারার আবেদন করা হয়েছে এবং পূর্বের মাছ ছাড়া থাকায় তিনি বাধা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবিরের দাবি, আজহারুল বিএনপির সমর্থক হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার পক্ষ নিয়েছিলেন এবং জামায়াত কর্মীরাই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
পুলিশি ব্যবস্থা
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, খালের দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



