ইস্টার সানডে উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি
দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী রোববার, ৫ এপ্রিল, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, এবং শনিবার, ৪ এপ্রিল, সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মোট টানা তিন দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। সাপ্তাহিক ক্যালেন্ডার অনুসারে, ইস্টার সানডের পূর্বের দুদিন যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে গণ্য হবে, ফলে পরের দিন বড়দিনের ছুটির সাথে মিলে এই তিন দিনের বিরতি তৈরি হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ
এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে সরকার দেশের মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে এবার পুরোপুরি অনলাইন নির্ভরতা নয়, বরং অনলাইন ও সশরীরে পাঠদানের সমন্বয়ে ব্লেন্ডেড বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। গতকাল বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সভায় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্লেন্ডেড লার্নিং পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতির বিস্তারিত পরিকল্পনা
ব্লেন্ডেড লার্নিং বলতে প্রথাগত শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান এবং ডিজিটাল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার সমন্বয়কে বোঝানো হয়। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে এবং বাকি সময় অনলাইনের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করবে। সভায় প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জোড়-বিজোড় দিনের ভিত্তিতে ক্লাস ভাগ করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসগুলো সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সময়েও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। তবে, এই পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।



