নওগাঁর মহাদেবপুরের বিনোদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগ বোর্ডসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল বারি। অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন।
অভিযোগের বিবরণ
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার মো. আ. বারী ২০০২ সালে বৈধ নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০০৪ সালের মে মাসে বিধি মোতাবেক ১২টি পদে নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন হয়। কিন্তু উক্ত নিয়োগে প্রভাবশালী মহলের ইচ্ছা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সুপারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
বিধিবহির্ভূতভাবে একজন জুনিয়র শিক্ষিকাকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দিয়ে তার মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ২০০৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সহকারী মৌলভী পদে মাওলানা রমজান আলী (ফাজিল), মো. মোজাহার আলী (সমাজবিজ্ঞান), মোস্তাক আহম্মেদ (সমাজবিজ্ঞান), মো. শহিদুল ইসলাম (কম্পিউটার) ও অফিস সহকারী মো. শাহজাহান আলীকে নিয়োগ দেখানো হয়।
পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে শূন্যপদ দেখিয়ে উপরোক্ত পদগুলোতে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী এবং পূর্বের নিয়োগকে সন্দেহজনক প্রমাণ করে।
নিয়োগ বোর্ডে অনিয়মের অভিযোগ
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, উক্ত নিয়োগ বোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্ত মো. শহিদুল ইসলাম ২০০৬ সাল পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে বিভিন্ন রেজুলেশনে স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। এমনকি তার নিজের নিয়োগ বোর্ডেও তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপারের বক্তব্য
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার জান্নাতুন তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি মোতাবেক সব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সুপার আ. বারির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে জেএমবির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার মামলায় আদালত তাকে বেশ কয়েক বছর সাজা দেয়।
সুপারের বক্তব্য
মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল বারি বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি বর্তমানে ওই মাদ্রাসাতে সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তদন্ত কমিটি গঠন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



