ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর এবার রাজ্যের সমস্ত মাদরাসায় বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এক প্রশাসনিক আদেশে জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত মাদরাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে এই গানটি গাইতে হবে।
আদেশের বিস্তারিত
রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীন মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে জারি করা সর্বশেষ আদেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্বীকৃত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি মাদরাসার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রতিদিন সকালের প্রাক-ক্লাস সমাবেশ বা দৈনিক প্রার্থনার সময় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে এই গানটি গাইতে হবে।
পূর্ববর্তী নির্দেশনা
এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব স্কুলের জন্য একই নিয়ম জারি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তাঁর এক অনলাইন পোস্টে পূর্ববর্তী সব রাজ্য নির্দেশনা বাতিল করে ঘোষণা দেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল স্বাধীনতাকামীদের অন্যতম প্রধান স্লোগান ও অনুপ্রেরণা। চলতি বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি আবারও তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে দেশটির মূল জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা প্রদান করে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্য স্তরেও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
অন্যান্য রাজ্যে বিতর্ক
সম্প্রতি ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও বিভিন্ন সরকারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হতে দেখা গেছে। চেন্নাইয়ের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মূল জাতীয় সংগীতের আগে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমকে দলীয় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল।



