আর্থিক কারণে কোনও মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন আর বাধাগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে এই মেধাবীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৪০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে এককালীন ও মাসিক বৃত্তি প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানের বিবরণ
মঙ্গলবার (১২ মে) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে আয়োজিত ব্র্যাকের ‘মেধাবিকাশ সংযোগ ২০২৬: মেধার আলোয় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান। ব্র্যাকের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার মৌটুসী কবীরসহ শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা এবং মেধাবিকাশ উদ্যোগের ২০ জন অ্যালামনাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বৃত্তির শর্ত ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্র্যাক সেই সব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে যাদের পারিবারিক মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার নিচে। আর্থিক কারণে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬ হাজার ১৬১ জন শিক্ষার্থী মেধাবিকাশ বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪০০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আসিফ সালেহ এর বক্তব্য
আসিফ সালেহ বলেন, পৃথিবীটা সবার জন্য সমান নয়। যে সুযোগ নিয়ে জন্মায়, তার পথ মসৃণ; আর যে বঞ্চিত, তার পথে বাধা প্রতিটি পদে। ব্র্যাক সেই বাধারমুখে দাঁড়িয়ে মানুষের হাতে হাতিয়ার তুলে দেয়, শুধু টিকে থাকার জন্য নয়, নিজের শর্তে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। যারা আজ সুযোগ পাচ্ছেন তাদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, তবে এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়। আজ যারা এই সুযোগ পাচ্ছেন তাদের কাছে একটি প্রত্যাশা— আগামীতে তারা যেন সহমর্মী হয়ে অন্য বঞ্চিতদের পাশে এসে দাঁড়ান। এসময় আসিফ সালেহ মেধা বিকাশের পুরনো অ্যালামনাইদের উদ্দেশে বিশেষভাবে আহ্বান জানান নতুনদের পথচলায় সঙ্গী হতে। পাশাপাশি তিনি জোর দেন মানবিক মূল্যবোধের ওপর। সহমর্মিতার দৃষ্টি একবার জেগে উঠলে, তাকে আর ঘুম পাড়ানো যায় না। তিনি বলেন, একটি মানবিক পৃথিবী গড়ে উঠবে তখনই, যখন আমরা প্রত্যেকে, নিজের নিজের জায়গা থেকে, মানবিক হবো।
সাফি রহমান খানের বক্তব্য
সাফি রহমান খান বলেন, শুরুতে আমরা ১৫০ জনকে বৃত্তি দিয়েছিলাম, যা এখন ৪০০ জনে উন্নীত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এটি ১ হাজার ২০০ জনের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। তরুণদের মেধা, পরিশ্রম ও ত্যাগ অবাক করার মতো। আপনাদের সংগ্রাম এবং ইতিবাচক মানসিকতা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এই মেধাবিকাশ সংযোগের মাধ্যমে আপনারা পরস্পরকে সহযোগিতা করবেন। ব্র্যাক পরিবার আপনাদের স্বপ্ন পূরণে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবার মেধাবিকাশ উদ্যোগের মাধ্যমে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ জন ২৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। যার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছেন ৪৫ জন। বুয়েট ও কুয়েটের মতো শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৭ জন শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১৫ জন এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে ১০৬টি সরকারি-বেসরকারি কলেজ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যেখানে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেধাবিকাশ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪০০ জনের মধ্যে ২০৬ জনই ছাত্রী, যা মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের সাড়ে ৫১ শতাংশ। আর কলেজ পর্যায়ে বৃত্তি প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রী ৬০ শতাংশ।
বৃত্তির অর্থ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মেধাবিকাশ উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এককালীন ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং মাসিক ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃত্তি পাবেন। যা তাদের আর্থিক দুশ্চিন্তা দূর করে পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্র্যাক একটি দক্ষ ও সহমর্মী প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



