যবিপ্রবিতে উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় হট্টগোল, উত্তেজনায় অনুষ্ঠান স্থগিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সদ্য যোগদান করা উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় হট্টগোল ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের সঙ্গে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
উপাচার্যের অনুষ্ঠান ত্যাগ ও ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। পরে দু’পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের মতে, এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
মতবিনিময় সভায় কী ঘটেছিল?
গত ১৫ এপ্রিল যবিপ্রবিতে পঞ্চম উপাচার্য হিসাবে চার বছরের জন্য যোগদান করেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। যোগদানের পর পূর্ব ঘোষিত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নতুন উপাচার্যের মতবিনিময়ের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়া এই সভায় ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতির প্রসঙ্গ টানলে, শিক্ষার্থীদের একাংশ তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
এসময় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন, অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরাও ‘গুপ্ত গুপ্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা ও স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
উত্তেজনার কারণে অনুষ্ঠান শেষ না করেই উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর নিজ দপ্তরে চলে যান। পরে দুইপক্ষ প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যারের অপমান, সইবো না, সইবো না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে মববাজি, চলবে না, চলবে না’ বলে স্লোগান দেয়, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি চলবে না, চলবে না’ বলে প্রতিবাদ জানায়।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে চাইলে, ছাত্রদল সমর্থিতরা রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যা তারা প্রতিবাদ করেন। তারা দাবি করেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির কারণে হত্যা, নির্যাতন ও টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটেছে, এবং একটি গোষ্ঠী অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে উপাচার্যকে উঠে যেতে বাধ্য করেছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সালেক খান বলেন, ‘আমরা রাজনীতি প্রসঙ্গ টেনে আনিনি, বরং শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া বিষয়ে বক্তব্য দিই। যারা বিগত সময়ে মববাজি করেছে, তারাই আজ নতুন ভিসিকে মব সৃষ্টি করে অপমান করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে যারা গুপ্ত, তারাই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
উপাচার্যের বক্তব্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এই ক্যাম্পাসে সব প্রকার দলীয় রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ এখানে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, এবং এ লক্ষ্যে সবরকম বিশৃঙ্খল আচরণ ও মববাজি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



