যবিপ্রবিতে উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় ছাত্রদল-সমর্থিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হট্টগোল
যবিপ্রবিতে উপাচার্যের সভায় ছাত্রদল-সমর্থিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হট্টগোল

যবিপ্রবিতে উপাচার্যের সভায় ছাত্রদল-সমর্থিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সদ্য যোগদান করা উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় ছাত্রদল-সমর্থিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এই ঘটনা সংঘটিত হয়, যা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।

ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও উত্তেজনা

প্রসঙ্গত, যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ। তবে, ১৫ এপ্রিল পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে যোগদানকারী অধ্যাপক ইয়ারুল কবীরের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত হয়। সভা শুরুর পর ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতির পক্ষে বক্তব্য রাখলে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল-সমর্থিতদের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন, অন্যদিকে ছাত্রদল-সমর্থিতরা ‘গুপ্ত, গুপ্ত’ বলে প্রতিবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করতে গেলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উপাচার্য ইয়ারুল কবীর অনুষ্ঠান শেষ না করেই নিজ দপ্তরে চলে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও পরবর্তী ঘটনা

কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, ‘সদ্য যোগদান করা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে পরামর্শ চাইলে, ছাত্রদল-সমর্থিতরা রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনে। আমরা প্রতিবাদ করি, কারণ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির কারণে হত্যা, নির্যাতন ও টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটেছে। একটি গোষ্ঠী অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে উপাচার্য স্যারকে উঠে যেতে বাধ্য করেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদল-সমর্থিত একজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, ‘আমরা রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনিনি, বরং শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিই। যারা বিগত সময়ে “মববাজি” করেছে, তারাই আজ নতুন ভিসিকে “মব” সৃষ্টি করে অপমান করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে যারা গুপ্ত, তারাই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’

ঘটনার পর দুই পক্ষ প্রশাসনিক ভবনের নিচে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রদল-সমর্থিতরা ‘ভিসি স্যারের অপমান, সইব না, সইব না’‘ক্যাম্পাসে মববাজি, চলবে না, চলবে না’ বলে স্লোগান দেন, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি চলবে না, চলবে না’ বলে প্রতিবাদ জানান।

উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান

এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে মিটিং শেষ করে চলে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, এই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। যে কারণে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।’

এই ঘটনা যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি ও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাবের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে।