শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙলো: গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান শেষ
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন ভেঙেছেন। অনশন শুরুর প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরাসরি অনুরোধে ওই তিন শিক্ষার্থী তাদের অনশন কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া
অনশনরত তিনজনের মধ্যে সাদিক মনোয়ার মুনেম ও সাকিবুর রহমানকে প্রথমে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এরপর তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের আরও বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনশনের পটভূমি ও দাবিসমূহ
এর আগে, গত বুধবার বিকালে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ থেকে বিরত রাখা এবং গুম প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন সাদিক মনোয়ার। ওই দিন সন্ধ্যায় তার সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে অনশনে যোগ দেন সাকিবুর রহমান। পরের দিন বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন শাহীনও এই অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
অনশন ভাঙা শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- গণভোট নিয়ে নাটকীয়তা বন্ধ করে গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন ও জনরায়কে বাস্তবায়ন করা।
- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা।
- গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলোর বাইরে জুলাই সনদে উল্লিখিত অপরাপর বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করা।
শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান ও দাবিগুলো সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাদের অনশন ভাঙার ঘটনাটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের মানবিক আবেদনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।



