রাবি ক্যাম্পাসে শিশির মনির ও ফুয়াদকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষার্থীরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একদল শিক্ষার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনিরকে গণভোট বিষয়ক এক সেমিনারে অতিথি করায় প্রকাশ্যেই ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্তৃক আয়োজিত এই সেমিনারে অংশগ্রহণকারী দুই রাজনীতিবিদের উপস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
সেমিনার আয়োজনে বাধা ও স্থান পরিবর্তন
প্রাথমিকভাবে রোববার সিনেট ভবনে এই সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিনা অনুমতিতে ভেন্যু নির্ধারণের অভিযোগে তাতে বাধা দেন। ফলে শেষ পর্যন্ত শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের খোলা জায়গায় ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ ও লাল কার্ড প্রদর্শন
সেমিনার শুরুর আগে থেকেই একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। তারা শিশির মনিরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী’ ও ‘আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের আইনজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করে তার উপস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন:
- ‘আবরারের আত্মত্যাগ, জুলাইয়ের প্রেরণা’
- ‘খুনিদের আইনজীবী, চাই না, চাই না’
- ‘খুনিদের পক্ষ নেওয়া লজ্জার, খুনিদের রক্ষাকারীদের ধিক্কার’
শিশির মনির ও ফুয়াদ সেমিনারস্থলে উপস্থিত হলে প্যারিস রোডে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে সেখান থেকে সরে যান। এক পর্যায়ে তারা শিশির মনিরকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও ফুয়াদের জবাব
লাল কার্ড প্রদর্শনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছেন শিশির মনির। তিনি ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দোসর। ড. জোহা স্যারের এই পবিত্র ক্যাম্পাসে আমরা কোনো খুনের দোসরকে গ্রহণ করতে পারি না।’
এদিকে, এই প্রতিবাদের জবাবে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘লাল কার্ড কাকে দেখাতে হবে সেই বুদ্ধি আপনাদের এখনো হয়নি। যারা সংবিধানের নামে দেশ বিক্রি করছে, তাদের লাল কার্ড দেখান। আগামীদিনে আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাই, সেখানে আপনারা কোন পক্ষে? আজাদির পক্ষে নাকি গোলামির? জনগণের এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তরুণরা ঘরে ফিরবে না।’
সেমিনারে শিশির মনিরের বক্তব্য
গণভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনায় শিশির মনির বলেন, গণভোটের ভিত্তিতে পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে কিন্তু সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনের পর পল্টি মেরেছেন। তিনি দাবি করেন, ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সংস্কার থেকে দূরে সরে যাওয়া দলটি শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির সিস্টেম থেকে মুক্তি চেয়েছে।’
শিশির মনির সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রসমাজ যদি আবারও জেগে উঠে তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে উপায় থাকবে না।’
সেমিনারে উপস্থিতি
এই সেমিনারে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্যসহ দুই শতাধিক শিবির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।



