চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযমের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার: নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
চবিতে গোলাম আযমের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, নেতাদের মন্তব্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযমের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার নিয়ে বিতর্ক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার লাগানো হয়েছে, যা ক্যাম্পাসে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর–সংলগ্ন ওয়াশরুম এবং কলা ঝুপড়ির দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে গোলাম আযমের মুখে জুতার চিহ্ন আঁকা ছিল এবং নিচে লেখা ছিল, ‘আমাকে জুতা মারুন।’ এই ঘটনায় ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যেখানে কেউ বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন, আবার কেউ ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ছাত্রদল নেতার মন্তব্য

চাকসুর এজিএস ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘সে একজন ঘৃণিত ব্যক্তি। সেই ঘৃণার জায়গা থেকেই হয়তো কোনো শিক্ষার্থী পোস্টারটি লাগিয়েছে। আমি বিষয়টিকে তেমন বড় করে দেখছি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে না, এটি রাজনৈতিকভাবে উসকানিমূলক। তিনি তো কোনো মহান ব্যক্তিত্ব নন যে তার পোস্টার লাগানো যাবে না।’ তার মতে, এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা এবং এর পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

ছাত্রশিবির নেতার প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘গতকাল রাতেই কয়েকজন পোস্ট করেছে দেখলাম। আর আজ পোস্টার দেখলাম। বিষয়টি হচ্ছে, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ হয়তো এটি করছে। তারা চাইছে আমরা যেন প্রতিক্রিয়া দেখাই। তারা ফাঁদ পাতার চেষ্টা করছে। তবে আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এসব বিষয় তো মীমাংসিত। তাদের আদালতে নেওয়া হয়েছে, বিচার হয়েছে। যারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, তারাই তো আর দেশে নেই।’ তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি এই ঘটনাকে একটি প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাকসু নেতার দৃষ্টিভঙ্গি

চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমতাদর্শের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। এর মাধ্যমে এটুকু প্রমাণ হয় যে চাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্ব দেওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। সব মতের মানুষ তাদের মতাদর্শ প্রচার করবে—এটা তাদের বিষয়।’ তার মতে, এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রকাশের স্বাধীনতার একটি উদাহরণ এবং এটি কোনো সমস্যা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীরা ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার টানিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ সক্রিয় আছি।’ তিনি সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রেখে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের—এটিকে সুষ্ঠু রাখা আমাদেরই দায়িত্ব।’ তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সতর্কতা এবং ক্যাম্পাস শান্তিপূর্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি ফুটে উঠেছে।

এই ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করলেও, প্রশাসন সতর্কতার সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।