জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, আন্দোলন প্রত্যাহার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার নামে পোষ্য কোটা ফিরিয়ে আনার প্রতিবাদে চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনের পটভূমি ও প্রতিবাদ
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আন্দোলনের মুখে পোষ্য কোটা বাতিল ঘোষণা করেন উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তবে গত সোমবার স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ভর্তির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।
আজ বুধবার বেলা একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন একদল শিক্ষার্থী। ওই সময় উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তাঁরা।
উপাচার্যের আশ্বাস ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, 'পোষ্য কোটায় ভর্তির আবেদন আপাতত স্থগিত থাকবে এবং ৮ মার্চ সব অংশীজনের সঙ্গে সভা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি।'
তবে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ১ মার্চ থেকে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিত করেননি উল্লেখ করে উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, 'আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি, আগামী ৮ মার্চ সব অংশীজনের সঙ্গে সভা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর ১ মার্চ থেকে যে ভর্তি আবেদন চলার কথা, সেটি যথারীতি চলবে। সব প্রতিষ্ঠানেই প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা থাকে, এটা পুরোপুরি বাতিল করে দিলে এরপর কেউ আদালতে রিট করলে সেটি আর টেকে না।'
আগামী পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য সমাধান
আগামী ৮ মার্চ সব অংশীজনের সঙ্গে সভা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—উপাচার্যের এমন আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তাঁরা। শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সভায় একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে।
এই ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান কোটা বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি হলো পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিল করা হোক, অন্যদিকে প্রশাসনের যুক্তি হলো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বজায় রাখা প্রয়োজন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলন প্রত্যাহার দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কোটা নীতির বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
