ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ছাত্রজোটের বিক্ষোভ মিছিল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাইমুদ্দীনের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনটি একইসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমের অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
মিছিলের বিবরণ ও স্লোগান
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এলাকার পায়রা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর ও হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা 'ডাকসু কী করে, ক্যাম্পাসে ছাত্র মারে', 'প্রশাসন কী করে, ক্যাম্পাসে ছাত্র মারে', 'নাইমের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে' এবং 'লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য
মিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতারা রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলমের অপসারণ, ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নুজিয়া হাসিন রাশা বলেন, "আমরা দাঁড়িয়েছি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, যার প্রতিবাদ আমরা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে করে আসছি। একটি নির্বাচিত সরকার আসার পরও আবার আমাদের এখানে দাঁড়াতে হচ্ছে। গতকালের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই মাসুদ সেই মাসুদ, যার নেতৃত্বে অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা চলে।"
তিনি আরও বলেন, "এই ধারাবাহিক দায়মুক্তি প্রশাসনের ভেতরে নিপীড়নমূলক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তাই আমরা তাকে অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।"
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া
বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীন বলেন, "অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুলিশের বেপরোয়া ও গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশের এমন আগ্রাসী ভূমিকা দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।"
অন্যান্য সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, "পুলিশের পোশাক বদলেছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। আমরা দেখেছি, অতীতেও প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতা প্রয়োজন।"
সমাবেশ থেকে নেতারা ছাত্রনেতা নাইমুদ্দীনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
