ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো নাকি সরাসরি সামরিক হামলা চালানো, এই দুইয়ের মাঝে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অন্য পথটি কিন্তু মোটেও ভালো হবে না।
শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ট্রাম্প
নিউইয়র্ক পোস্ট-এর পড ফোর্স ওয়ান পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বরং বিষয়টি ভালোভাবে বা শান্তিপূর্ণ উপায়েই সমাধান করতে চাই।
ইরানের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি
ইরানের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে সেখানে সেনা পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা কেবল বোমাবর্ষণ করেই তাদের সামরিক বাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছি। তিন দিন পর তাদের সামরিক বাহিনী কার্যত পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অথচ আপনি যদি নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়েন, তবে আপনার মনে হবে তারা খুব ভালো আছে।
কৌশলের ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনা
ইরান সংকট মোকাবিলায় কৌশলের কোনও ধারাবাহিকতা না থাকা নিয়ে সমালোচনাকে অবশ্য পাত্তাই দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থানও পরিবর্তিত হয়।
পডকাস্টের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি বিভ্রান্ত থাকে তবে সেটি ভালো, আর ইরানিরা এখন বিভ্রান্তই রয়েছে। এটা আসলে আমার স্বভাব, পরিস্থিতি বদলায়। আমি হয়তো এখান থেকে চলে যেতে পারি, আপনাকে একটি উত্তর দিতে পারি এবং এর ঠিক ২০ মিনিট পর ওভাল অফিসে গিয়ে বুঝতে পারি যে আমার দেওয়া উত্তরটি এখন ভুল। তথ্য পরিবর্তন হয় ও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যায়।
যুদ্ধকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা
ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, এটি বিলম্ব করার কোনও সুযোগ তার ছিল না। তিনি বলেন, আমি এটি পেছাতে পারতাম না, আমি জানি কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি যদি দেরি করতাম, তবে তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসত। বি-২ বোমারু বিমান হামলার ঠিক দুই সপ্তাহ পরেই তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত। সুতরাং আমি যদি তা করতাম, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।
প্রয়োজনীয় অভিযান হিসেবে হামলা
ইরানের ওপর চালানো এই উসকানিহীন হামলাকে একটি প্রয়োজনীয় ‘অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, তাদের কাছে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এবং আরও অনেক ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা



