ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর জয়নুল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আনন্দ মোহন সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত বুধবার বিকালে বন্ধু রিফাতের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের চর এলাকায় ঘুরতে যান শাওন। এ সময় তারা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা মারধর করলে জীবন বাঁচাতে দুই বন্ধু দৌঁড়ে পালাতে যান। তবে রিফাত প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন শাওন।
দুই দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাতে স্থানীয়রা নদের চরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় পানিতে ডুবেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অপরাধীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই আনন্দমোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নগরীর টাউন হল চত্বরে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন তারা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নগরীতে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেন তারা। পরে রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই নগরীতে বাড়তে থাকা অপরাধ প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো উন্মোচিত করেছে, যা প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নগরীতে পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের শোক প্রকাশ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো শিক্ষা সম্প্রদায়কে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে।
