ডাকসু সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনে বাদ পড়া নেতাদের ক্ষোভ, ফেসবুকে প্রকাশ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্যদের একাংশ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তবে এই অনুষ্ঠানে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকতে পারেননি, যা নিয়ে তিনি ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত ছবি ও প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার একটি ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা ডাকসু সদস্যদের একাংশের শ্রদ্ধা নিবেদনের ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানদের উপস্থিতি দেখা যায়, যাদের সঙ্গে মূলত ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টরা ছিলেন। তবে এই দলে ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা, উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ অন্যান্য ডাকসু সদস্যদের জায়গা হয়নি।
সর্বমিত্র চাকমা জানান, তিনি এই বিষয়টি মূলত বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচার থেকে জেনেছেন। তার মতে, 'হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা এবং অন্যান্যরা আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!' এই মন্তব্যে তার অসন্তুষ্টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারাবাহিকতা
রাত ১২টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর কিছুক্ষণ পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শ্রদ্ধা নিবেদনে যান।
এরপর রাত ১টার আশেপাশে ডাকসু সদস্যদের একাংশকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি ডাকসুর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়, যা সর্বমিত্র চাকমার ফেসবুক পোস্টে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতি ডাকসুর সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি তুলে ধরে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে একত্রিত হওয়ার এই মুহূর্তে এমন বিভাজন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
