কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট দখল নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদল নেতার হামলায় তিন কর্মী আহত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নিজ দলের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আতিকুর রহমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে হলের ছাদে সংঘটিত এই হামলায় ছাত্রদলের এক কর্মীর নাক ফেটে যাওয়াসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
আহতরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল আহমেদ নিবির এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সৌরভ হোসেন কাব্য। কাব্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নিবির জানান, "আমরা ছাদে আছি, এরমধ্যে ছাত্রদলের আতিক এসে আমার কলার ধরে চড় মারে। আর ১৬ ব্যাচের একজনের নাকে ঘুষি মেরে রক্ত বের করে ফেলেছে।" কাব্যের বন্ধু হুসাইন বিন আলি বলেন, তার নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
আবাসিক শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আতিকুর রহমান কাউকে না জানিয়ে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং একই কক্ষে আরেক ছাত্রদল কর্মীকেও তোলেন। পাশাপাশি সিফাত নামে একজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে হলের ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং হলের ছাত্রদল কর্মীদের বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ সিটে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। এ সময় অন্য গ্রুপের কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হামলার ঘটনা ও পালিয়ে যাওয়া
ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব শুভর উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান ছাত্রদল কর্মী নিবিরের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হয়। এতে কাব্যের নাক ফেটে যায়। একপর্যায়ে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুটে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অভিযোগ
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে রাতে হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাম্প্রতিক সময়ে হলগুলোতে অছাত্র বা দলীয় পরিচয়ে শিক্ষার্থী তোলার প্রবণতা বেড়েছে। তারা দাবি করেন, একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং সিট দখল নিয়ে প্রতিবাদ জানালে ছাত্রদলের নেতাদের উপস্থিতিতে মারধর করা হয়।
অভিযুক্তদের তালিকা ও প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্তরা হলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী তারিকুল ইসলাম এবং সিফাত। আতিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, "সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে।"
প্রাধ্যক্ষের বক্তব্য ও ব্যবস্থা
প্রাধ্যক্ষ ড. জনি আলম ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই ঘটনার সঙ্গে হল প্রশাসনের কারও কোনো সম্পর্ক থাকলে সেটা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া এখন সকলের প্রত্যাশা।
