নওগাঁর মান্দায় টেন্ডার না করেই প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার তিনটি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে গনেশপুর-সতিহাট (জিএস) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা এই কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গোপনে বিদ্যালয়ের দুটি মেহগনি ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে নেওয়া হয়। গাছ তিনটি বিক্রি করার পায়তারা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দম্পতি এর আগেও বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে পকেটস্থ করেছেন। প্রমাণ লোপাটের জন্য গাছ কাটার পর তারা প্রায়শই গাছের গোড়ায় মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্বাস আলী বলেন, "টেন্ডার হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের তিনটি গাছ কাটা হয়েছে।"
প্রধান শিক্ষকের স্বীকারোক্তি
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম রেজুলেশন বা টেন্ডার না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, "গাছ কাটার জন্য কোনো রেজুলেশন করা হয়নি। ছোট দুইটি গাছ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই কাটা হয়েছে। যেগুলো দিয়ে বেঞ্চ তৈরি করা হবে।" এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সভাপতির প্রতিক্রিয়া
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেওয়ান ইকরামুল হক বাচ্চু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গাছ কাটা হয়েছে তাতে আপনাদের কী সমস্যা? আমাদের প্রয়োজনে গাছ কাটা হয়েছে। আপনারা যা পারেন করেন।"
বন বিভাগের অবস্থান
মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহম্মদ আলী বলেন, "উক্ত বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগ থেকে কোনো টেন্ডার বা অনুমতি নেওয়া হয়নি। তারা কীভাবে গাছ কেটেছেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, "সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী টেন্ডার ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা যায় না। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"



