পাথরঘাটায় অবৈধ ডিজেল মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জেলে-অধ্যুষিত একটি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১৯০ ব্যারেল অবৈধ ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের নেতৃত্বে পাথরঘাট পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
অভিযানের সময় মেসার্স গাজী স্টোর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ডিজেল পাথরঘাটা উপজেলার নদী ও সাগর মোহনা এবং সাগরে মাছ শিকার করা জেলেদের মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। জ্বালানিসংকটের কারণে উপকূলের জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করতে মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মাছধরা ট্রলারগুলোর জন্য নির্ধারিত জ্বালানি দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়েছিল। অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর ফলে বহু জেলে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেননি এবং তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
জরিমানা ও ব্যবস্থা
অভিযানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত রাখার দায়ে মেসার্স গাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ গাজীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ডিজেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ফিশিং ট্রলার মালিকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জ্বালানিসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে রাতেই তালিকা অনুযায়ী ডিজেল বিতরণ করা হবে এবং জেলেরা আবার সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
ইউএনও তাপস পাল বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুতদারি বা সিন্ডিকেট কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন সদা সচেষ্ট রয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির অভাবে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে তাদের সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



