সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ কাটার ঘটনায় উত্তেজনা, প্রশাসন জারি করেছে ১৪৪ ধারা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ আইন অমান্য করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নোয়াগাঁও, গোরেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুলু গ্রামের শতাধিক সশস্ত্র লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ডাকুয়ার হাওর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
হামলায় আহত কমপক্ষে ২০ জন কৃষক
বাঁধ কাটতে বাধা দেওয়ায় মোহনপুর গ্রামের কৃষকদের ওপর হামলা করা হলে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আলী, আফিজ, সুকুর আলী, আজিজুল, জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও ভীতির সৃষ্টি করেছে, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের জরুরি সভা ও কমিটি গঠন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মোহনপুর গ্রামের লোকজন ও নোয়াগাঁও এলাকার লোকজনকে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার বাঁধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি সভা করেন। তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন, কিন্তু সভা চলাকালেই মছব্বির মেম্বারের নির্দেশে তার এলাকার পাঁচ শতাধিক সশস্ত্র লোকজন জোরপূর্বক বাঁধ কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাঁধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা করেছেন, কিন্তু এর আগেই নোয়াগাঁও এলাকার লোকজন আইন অমান্য করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার বলেন, এক পক্ষ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে বাঁধ কেটে দিয়েছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, যা জনসমাগম ও অস্থিরতা রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য
মোহনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বলেন, আমাদের গ্রামের লোকজন বাঁধ কাটতে বাধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে, এবং এই ঘটনা স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে। তিনি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
এই ঘটনা সুনামগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সংঘাত এড়াতে কার্যকরী সমাধান প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।



