কর্তব্য অবহেলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব রুম্পা সিকদারের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত
বরিশাল সিটি সচিবের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, কর্তব্য অবহেলার দায়

কর্তব্য অবহেলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিবের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারকে কর্তব্য অবহেলার দায়ে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করে লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কার্যকর হয়েছে।

অভিযোগের পটভূমি

রুম্পা সিকদার ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে নলছিটি উপজেলা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে তৃতীয় পর্যায়ে মাটিভাঙা এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শন করলে দেখা যায়, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘরই নির্মাণ করা হয়নি। ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে সমুদয় চেকে স্বাক্ষর করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও শুনানি প্রক্রিয়া

২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর রুম্পা সিকদারের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিত জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানির জন্য আবেদন করেন, এবং ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ন্যায় বিচারের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল, কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও টাকার ব্যবহার সম্পর্কে কোনো তথ্য বিবরণী লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দণ্ড ও প্রভাব

তদন্তে রুম্পা সিকদারের প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও কর্তব্য অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায়, বিধি অনুযায়ী তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত শীর্ষক লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কঠোর নজরদারির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।