মাদারীপুরে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ২০টি বাড়ি-দোকান বিধ্বস্ত, পাঁচ জন আহত
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় শামসু সরদার ও হাবিব হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২০টি বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শামসু সরদার (ওরফে কোপা শামসু) ও হাবিব হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে শুক্রবার সকালে শামসু সরদারের লোকজন হাওলাদার গ্রুপের ঢালী বংশের একটি বাড়িতে হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে দেয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও যানজটের সৃষ্টি
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, "বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।" তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, সংঘর্ষের সময় দ্রুত হস্তক্ষেপ না করায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে গেছে।
এই ঘটনা মাদারীপুরের স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা এখন নজরদারিতে রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধ করা যায় এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়।



