ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে রাতে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পূর্বের একটি হত্যা মামলার জেরে রাতের আঁধারে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুড়াহাটি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, পুলিশ সদস্যসহ বহু ব্যক্তি হাসপাতালে
সংঘর্ষে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া, পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম তালুকদার, উপপরিদর্শক ফারুক আহমেদ, সহকারী উপপরিদর্শক ইউনুছ গাজী, এএসআই সুলতান হোসাইন, এএসআই আরিফিন জাহান, সদস্য আমির হোসেন, মাসুদ রানা, শাহীনুল ইসলাম, আজিজুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পূর্বের হত্যা মামলার জেরে উত্তেজনা বৃদ্ধি
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশ ও মৃধা বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে শেখ শামসুদ্দিন (৬০) নামের একজন নিহত হন। এ ঘটনায় শামসুদ্দিনের ছেলে শেখ আবুল হাশেম বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিপক্ষের লোকজন কয়েক বছর ধরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য বাদীপক্ষকে চাপ দিয়ে আসছিলেন এবং তাঁরা বাদীপক্ষের লোকজনকে রাস্তাঘাটে চলাচলে বাধা দিচ্ছিলেন।
এ নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের পরদিন আসামিপক্ষের এক যুবক বাদীপক্ষের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে মুড়াহাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন, তখন বাদীপক্ষের লোকজন বাধা দেন। এর জেরে মুড়াহাটির লোকজন বাদীপক্ষের লোকজনকে রাস্তাঘাটে চলাচলে বাধা দিতে শুরু করেন, যা গতকাল রাতে মুড়াহাটি ও বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়।
সংঘর্ষের স্থান ও নেতৃত্ব
শাহবাজপুর–বুড্ডা সড়কে এ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। সংঘর্ষে মুড়াহাটি গ্রামের পক্ষ নেন শাহবাজপুর ইউনিয়নের বন্দেরহাটির লোকজন, যার নেতৃত্বে ছিলেন শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিজ মিয়া। অন্যদিকে বুড্ডা গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ শামসুদ্দিনের ছেলে শেখ রাকিব উদ্দিন।
পুলিশের মামলা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় এসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেন, যাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১২০ জনকে। তার আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে আজ বেলা ১১টার দিকে মুড়াহাটি গ্রামের রুস্তম মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তি থানায় আটক ব্যক্তিদের দেখতে যান, তখন তাঁকেও আটক করা হয়।
ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, "আগের একটি খুনের ঘটনার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন এলাকার অবস্থা শান্ত। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।"
গ্রেপ্তারকৃত সাতজনকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা মুড়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।



