মাদক ও অশ্লীলতার অভিযোগে চাঁদপুরের 'লেংটার মেলা' বন্ধ
মাদক অভিযোগে চাঁদপুরের 'লেংটার মেলা' বন্ধ

মাদক ও অশ্লীলতার অভিযোগে চাঁদপুরের 'লেংটার মেলা' বন্ধ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মাদক সেবন, অশ্লীল নৃত্য এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে 'লেংটার মেলা'র কার্যক্রম বন্ধ করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বেলতলী এলাকায় মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত কন্ট্রোলরুম থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গত মঙ্গলবার সকালে মেলা শুরু হয়েছিল, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশের ঘোষণা ও মেলা বন্ধের কারণ

গতকাল সন্ধ্যায় মেলা চত্বরে স্থাপিত কন্ট্রোলরুম থেকে মতলব উত্তর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা করেন, মাদক সেবনসহ নানা অশ্লীলতার অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সন্ধ্যার পর থেকে মেলার কার্যক্রম বন্ধ করা হলো। এ সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে মেলা এলাকা ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, মেলা শুরুর পর থেকেই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা, অশ্লীল নৃত্যসহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে।

মেলার পটভূমি ও ঘটনাবলী

প্রয়াত পীর ও সাধক হজরত শাহ সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ১৭ চৈত্র উপজেলার বেলতলীতে তাঁর মাজার শরিফ এলাকায় সাত দিনব্যাপী মেলা ও ওরস অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়ভাবে এটি 'লেংটার মেলা' নামে পরিচিত, যেখানে সাধারণত ১০-১৫ লাখ লোকের সমাগম হয়ে থাকে। এবারও মঙ্গলবার সকালে ভক্তবৃন্দ ও লেংটা বাবার মাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মেলা শুরু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, মেলা শুরুর পরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা, অশ্লীল নৃত্যসহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, এবং মাদকসেবীদের হামলায় জখম হন ওই মাজারের সেবক মতিউর রহমান ওরফে লাল মিয়া। এসব কারণে মেলা শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেলাটি ঐতিহ্যবাহী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এর চরিত্র পরিবর্তিত হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন, তবে ভবিষ্যতে মেলাটি কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেলা বন্ধের সিদ্ধান্তটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নীতির প্রতিফলন ঘটায়।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেলাটি পুনরায় চালু করার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মকানুন নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনাটি স্থানীয় উৎসবগুলোর পরিচালনায় আরও নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যাতে সামাজিক শান্তি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা যায়।