নড়াইলে ঈদের মাংস বিতর্কে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ২৫ আহত, ১৪ আটক
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় ঈদুল ফিতরের দিনে মাংসের ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এলাকায় এ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনার সূত্রপাত
কালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাসানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নওয়াগ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইসরাইল শেখ এবং অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন খায়রুল মোল্যা।
গত শনিবার ঈদের দিনে ইসরাইল শেখের পক্ষ একটি গরু জবাই করেন। কিন্তু খায়রুল মোল্যার পক্ষের একজনকে সেই গরুর মাংসের ভাগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এই ঘটনা থেকে এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং তা সোমবার রাতে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের বিস্তারিত ও আহতদের অবস্থা
সোমবার রাতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ‘ছররা গুলি’ ছোড়ার ঘটনা ঘটে, যা উভয় পক্ষের লোকজনকে আঘাত করে। এতে মোট ২৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ১৪ জনকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচী বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’ আহতদের অন্যান্য স্থানীয় ক্লিনিকেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের তৎপরতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা
জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার সংঘর্ষের পর দ্রুত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।’
পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করেছে। রবিন হালদার আরও যোগ করেন, ‘আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং আমরা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রাখব।’ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এলাকার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঈদের উৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক বা স্থানীয় উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন।



