স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, দ্রুত সমাধানের দাবি
স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

বিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থইথই করছে। দেখে মনে হবে পুকুর কাটা হয়েছে। ওই পানির মধ্যে দিয়েই চলাচল করতে হয় শিশুদের। জায়গার অভাবে বারান্দায় শিশুশিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও ছোটাছুটি করছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে পানির মধ্যে খেলা করতে গিয়ে কাদাপানিতে পড়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা এলাকার মাওনা জে এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ দৃশ্য দেখা যায়।

জলাবদ্ধতার কারণ ও প্রভাব

জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টির সামনের মাঠে পানি জমে যায়। প্রতি বছরেই বর্ষায় এ সমস্যা থাকে। বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েও জলাবদ্ধতার সমাধান মেলেনি। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও শ্রাবণ বলে, ‘স্কুলের মাঠে পানি জমে থাকার কারণে চলাফেরা ও খেলাধুলা করতে পারি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ বলে, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে বের হতে পারে না। আসা-যাওয়ার সময় কেউ না কেউ পা পিছলে পড়ে যায়। তখন পোশাক, বইখাতা সবকিছু ভিজে যায়। আর মাঠে পানির জন্য খেলাধুলা বন্ধ থাকে পুরো বর্ষাকাল। আমরা চাই, মাঠের জলাবদ্ধতার দ্রুত সমাধান হোক। আমরা মাঠে খেলতে চাই, দৌড়ঝাঁপ করতে চাই।’

স্থানীয়দের অভিমত

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, আশপাশের কয়েক এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাঠ। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মাঠে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি বেড়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষকদের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী এক হাজার ১৮ জন। প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও। মাঠটির দক্ষিণ পাশের জমি নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে যায়। তিন বছর ধরে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর পুরো বর্ষা মৌসুম মাঠে পানি থাকে। কাদা ও পানির জন্য শিক্ষার্থীরা অ্যাসেম্বলি ও শরীরচর্চা করতে পারে না। এতে স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

মাওনা জে এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, ‘আশপাশের বসতবাড়ি নির্মাণ হওয়ায় এবং স্কুলের চারপাশের চলাচলের রাস্তা উঁচু হওয়ার কারণে মাঠ নিচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে থাকে। ইতোমধ্যে মাঠ ভরাটের জন্য শ্রীপুর পৌরসভা থেকে টেন্ডার হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘মাওনা জে এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’