নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক 'ফাতেহ-২' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই ঐতিহাসিক অর্জনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।
ফাতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য
উন্নত কারিগরি এবং আধুনিক যুদ্ধবিদ্যার সমন্বয়ে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইএসপিআর জানিয়েছে, ফাতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিকস এবং আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তিতে সজ্জিত।
পরীক্ষার উদ্দেশ্য
এই সফল উৎক্ষেপণের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনাদের পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করা। একইসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্যভেদে নির্ভুলতা এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য এর অভ্যন্তরীণ উপ-ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
এই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কৌশলগত আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকে আরও সংহত করবে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক পরীক্ষাটি প্রত্যক্ষ করেছেন পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন (এসপিডি), আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কৌশলগত সংস্থাগুলোর একদল বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল কার্যকারিতা দেখে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের এই সামরিক সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান।
নেতাদের বক্তব্য
এক বিবৃতিতে তারা এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, একনিষ্ঠ পরিশ্রম এবং গভীর অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, নিজস্ব প্রযুক্তিতে এমন আধুনিক সমরাস্ত্র নির্মাণ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পূর্ববর্তী সাফল্য
পাকিস্তান গত কয়েক বছর ধরেই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বহরের আধুনিকায়ন করে চলেছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার 'ফাতেহ-৪' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল দেশটি। এ ছাড়া গত বছরের মে মাসে আঞ্চলিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১২০ কিলোমিটার পাল্লার ফাতেহ সিরিজের অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।



