মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি এখনও তাদের কাছে ‘যুদ্ধকালীন’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনী সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফারস নিউজের বরাতে তথ্য
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যম ফারস নিউজের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের সামরিক পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি।
পরিস্থিতি স্থিতিশীল মনে হলেও প্রস্তুতি পূর্ণ
তার মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল মনে হলেও কৌশলগত দিক থেকে তারা পূর্ণ যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখছেন। শত্রুপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই মুখপাত্র আরও জানান, ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় প্রতিনিয়ত নতুন মাত্রা যোগ করছে। তিনি বলেন, ‘শত্রু যদি নতুন কোনো হঠকারী পদক্ষেপ বা আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সমর সরঞ্জাম ও আধুনিক যুদ্ধকৌশলের মুখোমুখি হতে হবে।’
কঠিন ও নজিরবিহীন জবাবের আগাম সতর্কতা
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তাটি মূলত রণক্ষেত্রে একটি ‘কঠিন ও নজিরবিহীন’ জবাব দেওয়ার আগাম সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির সামরিক কমান্ড মনে করছে, যেকোনো সময় শত্রুপক্ষ থেকে উসকানিমূলক তৎপরতা আসতে পারে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই আকাশসীমা সুরক্ষা থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।



