সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ নলুয়া, মই ও পিংলার হাওড়সহ বিভিন্ন হাওড়ের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় হাওড়জুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বক্তব্য
নলুয়ার হাওড়ের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া বলেন, তিনি ১৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র ৫ কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।
জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, পিংলার হাওরে ১০ কেদার জমি করেছি। এখন পর্যন্ত ২ কেদার ধান কেটেছি। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটতে পারছিনা। অন্যদিকে হাওড়ে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।
স্থানীয় প্রতিনিধির মতামত
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রনধির দাস নান্টু জানান, নলুয়ার হাওড়ের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে ভুগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
কৃষকের দুর্দশা
মই হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক আছাদ মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?
একই গ্রামের কৃষক রূপ মিয়া, মোহন মিয়া, ছাবির মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওড়ের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। হাওড়ের শতশত কৃষক পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ফসল তুলতে পারছে না। ডুবে গেছে ধান শুকানোর খলা। পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন হাওড়পাড়ের মানুষ।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওড়ের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে হিমশিম পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি করেছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমি হাওড়ে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা করছি।



