শীত শেষে গরমে কম্বল বিতরণ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বহীনতায় ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা
শীত শেষে গরমে কম্বল বিতরণ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বহীনতা

শীত শেষে গরমে কম্বল বিতরণ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বহীনতায় ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

প্রায় মাসখানেক আগেই শীত বিদায় নিয়েছে। রাজশাহীর মানুষ এখন রাতে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু শীত শেষ হওয়ার এক মাস পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে। এই ঘটনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাটির দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপকারভোগীদের মধ্যে।

কম্বল বিতরণের সময় ও স্থান

সোমবার (৩০ মার্চ) রাজশাহীর পবা উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৮টি কম্বল বিতরণ করে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থে কেনা এসব কম্বল পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সরবরাহ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ২০৮টি এবং নওহাটা পৌরসভার মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাঝে ২৩০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেকে একটি করে গরম কম্বল পেয়েছেন।

উপকারভোগীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ

শীত বিদায়ের পর গরম কম্বল পেয়ে উপকারভোগীরা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পবার বড়গাছি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, "এটি চরম অব্যবস্থাপনা। শীত চলে যাওয়ার এক মাস পর ইমাম-মুয়াজ্জিনরা এখন কম্বল নিয়ে কী করবেন?"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নওহাটা পৌরসভার বায়াপাড়া মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল ঈদ উপহার দেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ফোন করে আসতে বলা হয়েছিল। এসে দেখি, কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। গরমের সময় শীতের কম্বল নিয়ে আমাদের এখন কী লাভ হবে? শীতের সময় পেলেও তো কাজে লাগত।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুঠিয়াপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন কবির হোসেন বলেন, "এবার রাজশাহীতে তীব্র শীত ছিল, শৈত্যপ্রবাহও ছিল। একটানা আড়াই থেকে তিন মাস তীব্র শীতের মধ্যে কাটাতে হয়েছে আমাদের। সে সময় কম্বলখানা পেলে কতই না উপকার হতো। এখন এই কম্বল নিয়ে কোনো লাভ নেই। আগামী শীতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখন নিয়ে গেলাম, তুলে রাখবো।"

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও প্রকল্প কর্মকর্তার বক্তব্য

এই বিষয়ে রাজশাহী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মুসলেহউদ্দিন জানান, "জাতীয় নির্বাচন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে কম্বল সরবরাহ পেতে দেরি হয়েছে। আমরাই কয়েকদিন আগে কম্বল সরবরাহ পেয়েছি। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না, তাই এখন বিতরণ করছি। অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছেন, কিন্তু আমাদের বা কী করার ছিল?"

অন্যদিকে, পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আগেই পবা উপজেলার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য মোট ১ হাজার ২৫০টি কম্বল সরবরাহ করেছি। তারা নিজেদের মতো করে তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকা প্রস্তুত করতে তারা বিলম্ব করেছে বলে জানতে পেরেছি। শীতের মধ্যেই এসব কম্বল বিতরণ করা সম্ভব ছিল, তারা তা করেনি। এটি তাদের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি, এ দায় আমাদের না।"

দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। উপকারভোগীরা সরাসরি সংস্থাটির কাজের সময় ও পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধ্যে দায়দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক চলছে, যা সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে তুলে ধরছে।

শীতকালীন সহায়তা প্রকল্পের মতো সময়সাপেক্ষ কার্যক্রমে দেরি হলে এর সুফল হারিয়ে যায়, যা এই ঘটনায় স্পষ্ট। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থাগুলোর জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় ঘটনা, যাতে ভবিষ্যতে সময়মতো ও যথাযথভাবে সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করা যায়।