কুমিল্লার ভুট্টাখেতে শিশু নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনা
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে তার কানে থাকা সোনার দুল ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করে।
শিশুটির গুরুতর অবস্থা ও চিকিৎসা
আহত শিশুটিকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ইসলাম শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে বলেন, "শিশুটির কান, মুখ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।"
চিকিৎসক আরও উল্লেখ করেন যে, পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় সেই বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। বর্তমানে শুধুমাত্র তার ক্ষতের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শিশুটির বাবা সেদিন সকালে দিনমজুরের কাজে বাইরে ছিলেন এবং মা বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে শিশুটি বাড়ির পাশের সড়কে একা খেলছিল। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে জোর করে পাশের ভুট্টাখেতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার কানের দুল ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করে।
শিশুটির চাচা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "বাড়ির পাশের ভুট্টাখেত থেকে আমরা শিশুটিকে সংজ্ঞাহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। এটি একটি নির্মম ও মানবতাবিরোধী ঘটনা।"
শিশুটিকে সড়কে না দেখে পরিবার ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং অবশেষে তাকে ভুট্টাখেতে পাওয়া যায়।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আবদুল হালিম এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, "আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।"
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।



