নড়াইলে অবৈধ ডিজেল পাচার রোধে অভিযান, সাত হাজার ৪০০ লিটার জব্দ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে পাচারের সময় পৃথক দুই স্থানে অভিযান চালিয়ে সাত হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বারইপাড়া ফেরিঘাট ও কলবাড়িয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় জড়িত দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রথম অভিযানে এক হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে বারইপাড়া ফেরিঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম অভিযান চালান। অভিযানকালে একটি ভ্যান ও ট্রাক্টরে রাখা নয় ব্যারেল থেকে এক হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তেলের মালিক উপজেলার মাউলী গ্রামের পিন্টু শেখকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে পাঁচ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ
অপরদিকে এই ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর একই উপজেলার কলবাড়িয়া এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় একটি ট্রাক থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) জব্দ করেন তিনি। এ সময় তেলমালিক উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের খায়রুল শেখ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় তাকে।
জব্দকৃত ডিজেলের উৎস ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, দুটি অভিযানে জব্দ করা জ্বালানি তেল (ডিজেল) খুলনার ডুমুরিয়া ও হরিণটানা এলাকা থেকে সংগ্রহ করে কালিয়া এলাকায় আনা হয়েছিল। তারা ওই তেলের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ কারণে তেল জব্দ করে কালিয়া ফিলিং স্টেশনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরে এসব তেল ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এই অভিযানগুলি স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ জ্বালানি পাচার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।



