লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাঁশের সাঁকোয় ৩০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত
রায়পুরে বাঁশের সাঁকোয় ৩০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাঁশের সাঁকোয় ৩০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকোর উপর নির্ভরশীল। চরবংশী বেরিবাঁধ গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানালেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি, যার ফলে তাদের জীবনযাত্রায় নানা ধরনের সমস্যা ও ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।

গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যা

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের অন্তর্গত এই গ্রামটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসবাস, যাদের মধ্যে অধিকাংশই জেলে ও কৃষিজীবী। গ্রামটির মাঝ দিয়ে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খাল প্রবাহিত হওয়ায় এটি আশপাশের অন্যান্য এলাকা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাঁশের সাঁকো: যাতায়াতের একমাত্র ভরসা

গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন প্রায় ২০ থেকে ৩৫টি বাঁশের সাঁকো, যা দিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সাঁকো পার হওয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অধিকাংশ পরিবারের ব্যক্তিগত নৌকা থাকলেও তা দৈনন্দিন যাতায়াতের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

চরকাছিয়া গ্রামের কলেজছাত্র আক্তার হোসেন ও মোঃ মালেক বলেন, "একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে আমরা প্রতিদিন সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছি। বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায় এবং চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।"

চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সোবহান উল্লেখ করেন, "আমাদের গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি অসংখ্য বাঁশের সাঁকো রয়েছে, কিন্তু এগুলোর বেশিরভাগই অস্থায়ী। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক নিগার সুলতানা বলেন, "এই গ্রামে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করা গেলে কৃষক ও জেলেদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। আমরা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুমন মুন্সি জানান, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার এলাকায় কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব already জমা দেওয়া হয়েছে। বাজেট অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া দাবি করেন, "বিএনপি সরকার সবসময় উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। মেঘনা উপকূলীয় এই অঞ্চলে কমপক্ষে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।"

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অনুপস্থিতি

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই গ্রামে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। কৃষিপণ্য মাঠ থেকে তুলে আনা-নেওয়া এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য তারা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর উপর নির্ভরশীল। গ্রামবাসীদের মতে, খাসেরহাট বাজার বেরিবাঁধ মেইন রাস্তার সংযোগস্থলে একটি মাত্র সেতু নির্মাণ করলেও তাদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হতো।