মানিকগঞ্জে বিমানমন্ত্রী রিতার মানবিক উদ্যোগ: প্রতিবন্ধীর ঘর মেরামতে ১ লাখ টাকা অনুদান
বিমানমন্ত্রী রিতা প্রতিবন্ধীর ঘর মেরামতে ১ লাখ টাকা অনুদান দিলেন

মানিকগঞ্জে বিমানমন্ত্রী রিতার মানবিক উদ্যোগ: প্রতিবন্ধীর ঘর মেরামতে ১ লাখ টাকা অনুদান

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এক শারীরিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির বসতঘর মেরামতের জন্য নগদ এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এই মানবিক পদক্ষেপে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে মন্ত্রীর এই উদ্যোগ।

অনুদান বিতরণের ঘটনা

মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার খুনিরটেক গ্রামে গিয়ে প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর আলম ফারুকের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

প্রতিবন্ধী ফারুকের কষ্টের জীবন

সাটুরিয়া সদর ইউনিয়নের খুনিরটেক গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম ফারুক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অন্ধত্ব নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করে আসছিলেন। তার বসবাসের টিনশেড ঘরটি ছিল জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবস্থায়। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে হাঁটু সমান পানি জমে যেত, ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছিল তাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহুদিন ধরেই তিনি সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন; কিন্তু নানা কারণে সেই সহায়তা তার ভাগ্যে জোটেনি। আর্থিক অক্ষমতার কারণে নিজ উদ্যোগেও ঘরটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছিল না, যা তার দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সাড়া

এ অবস্থায় বিষয়টি মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেন। তিনি সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখনের মাধ্যমে এক লাখ টাকা অনুদান দেন, যা ফারুকের ঘর মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগী ফারুক দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন এবং পরবর্তীতে দৃষ্টিশক্তিও হারান। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তার জীবনযাপন হয়ে ওঠে চরম দুর্বিষহ, যা এই অনুদান কিছুটা লাঘব করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের মতে, মন্ত্রীর এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবাই উদ্বুদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত সহায়তা নয়, বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ অন্যান্য নেতা ও প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।