দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আগামী দিনে গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে তিনি এ ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
রবিবার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আখতার হোসেন গ্রামবাংলার প্রায় সব সংসদ সদস্যের মনের কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি গ্রামীণ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ অনুভব করেছেন।
বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ
মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ধীরে ধীরে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করছে। এই দুর্নীতির ফলে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তহবিল অপসারণের অভিযোগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু উপদেষ্টা নিজ এলাকায় বরাদ্দকৃত তহবিল সরিয়ে নিয়েছেন। এই তহবিল অপসারণের ফলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি এই অবস্থার উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ও সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীর এই বক্তব্য গ্রামীণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে টেকসই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



