কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা
কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি এলাকায় আর কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি রোববার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ভাসমান দোকান ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান তীব্রতর করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম ধাপে ধাপে নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, "সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জরুরি। তবে যারা আইনানুগভাবে ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।" এর আগে, ৯ মার্চ কক্সবাজার ডেপুটি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকত থেকে সকল ভাসমান অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন।
উচ্ছেদ অভিযানের বর্তমান অবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে স্থানীয় প্রশাসন সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ৫০০টিরও বেশি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছে। কক্সবাজার ডেপুটি কমিশনার মো. এ মাননান জানিয়েছেন, সুগন্ধা পয়েন্টের সকল স্থাপনা ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে টেকনাফ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা পরিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, "এই অভিযানটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য আমরা পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা অনুসরণ করছি।"
পর্যটন খাতের প্রতিক্রিয়া
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ভাসমান দোকান অপসারণের ফলে সৈকতের চেহারা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। বালিয়াড়ি এবং নীল জলরাশি এখন সড়ক থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগামী ঈদ ছুটিতে আগত পর্যটকরা আরও পরিষ্কার এবং দৃষ্টিনন্দন সৈকত পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, "প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেন। তাদের অধিকাংশই সৈকত পরিদর্শন করেন। কিন্তু পূর্বে বালিয়াড়িতে অস্থায়ী দোকান ও বসতির কারণে পর্যটকরা অসন্তোষ প্রকাশ করতেন। এসব এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেরও খবর পাওয়া যেত।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণের ফলে সৈকতের সামগ্রিক চেহারা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং সামুদ্রিক দূষণ হ্রাস পেতে পারে।
উপস্থিতি ও সমর্থন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল ও শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক এটিএম নুরুল বাশার চৌধুরী, ডেপুটি কমিশনার মো. এ মাননান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকলেই এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।



