ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি
বোয়ালমারীতে ইমামদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম, অপসারণ দাবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মনিরুজ্জামান সিকদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং তাদের অপসারণের দাবিতে উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নাজ ক্যাবল অপারেটরের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ খানের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈদ উপলক্ষে পৌরসভা কর্তৃক প্রতি বছর ইমামদের সম্মানে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদানে টালবাহানা ও গড়িমসি, পাশাপাশি ইমামদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি ও বোয়ালমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের (বাইতুল হামদ) পেশ ইমাম মাওলানা হোসাইন আহমাদ তাদের অপসারণের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালমারীর পৌরসভা থেকে পৌর মেয়ররা পৌরসভার মধ্যে সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য ঈদ উপলক্ষে একটি আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছেন। অর্থটা সামান্য হলেও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানিত করায় আমরা গর্ববোধ করেছি। বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান আগের ধারাটা বজায় রাখলেও পৌর সচিব মো. মনিরুজ্জামান সিকদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান অর্থ ছাড় দিতে নানা টালবাহানার আশ্রয় নেন। এমনকি ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্থ ছাড় যাতে না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এমন সিদ্ধান্তের কারণে তাদের অপসারণ দাবি করছি আমরা।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য বক্তাদের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বোয়ালমারী ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামদ খানও বক্তব্য রাখেন। তিনি সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মশা নিধন ওষুধ ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, ‘৬ লাখ টাকার মশক নিধন ওষুধ ক্রয় করে আমার এলাকায় বিল করেছে ১৩ লাখ টাকা। পৌরসভার যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ১ শতাংশ ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না। মেয়র, কাউন্সিলর না থাকায় তারা নিজেদের পৌরসভার সর্বেসর্বা ভাবেন। কোনও মানুষকে সম্মান দেন না। এমনকি ইমামদের বরাদ্দের টাকা থেকেও কৌশলে একটা অংশ কেটে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।’ সাবেক এই কাউন্সিলর ঈদের পর এই সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কামারগ্রাম পুরাতন জামে মসজিদের ইমাম মাহবুবুল হক, দারুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব রুহুল আমীন, কামারগ্রাম বায়তুল মোয়াজ্জেম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আ. আহাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড জামে মসজিদের (ওয়াপদা) ইমাম ও খতিব মুফতি আবুল হাসান, এবং বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি তৈয়বুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার সব মসজিদের ৫০-৬০ জন ইমাম উপস্থিত ছিলেন, যা এই বিষয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে তুলে ধরে।

অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

এ প্রসঙ্গে বোয়ালমারী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার দফতরের নয়। এটি সম্পূর্ণ দেখভাল করেন পৌরসভার সচিব ও অ্যাকাউন্টেন্ট।’ অন্যদিকে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়া প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক এস এম রকিবুল হাসান মন্তব্য করেন, ‘ইমামদের আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি অফিসিয়াল অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এখানে বিলম্ব করার সুযোগ নেই।’ এই প্রতিক্রিয়াগুলো অভিযোগের জটিলতা এবং দায়িত্ব বিভাজন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে, এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন সম্প্রদায়ের দাবিগুলো ন্যায়বিচার ও সম্মান নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছে।