ফরিদগঞ্জে ছয় প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের নতুন বাসস্থান উদ্বোধন
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাই-বোন ও তাদের পরিবারের জন্য একটি নতুন তিন রুমবিশিষ্ট টিনশেড পাকা ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন, যা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অর্থায়নে এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের আজিম বাড়িতে অবস্থিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য বিল্লাল হোসেন মানিকসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক প্রথমে নির্মাণ কাজের ফলক উন্মোচন করেন এবং পরে ভবনের ইট গেঁথে কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।
উদ্বোধন শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে ঈদের জামা কাপড় ও চিনি সেমাই তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের সামাজিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার এই সময়ে গণমাধ্যমকে বলেন, "সমাজের আয়না গণমাধ্যম। ফরিদগঞ্জে এর একটি বড় উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন টিভি ও সংবাদপত্রে ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের করুণ কাহিনী প্রচারের পরই আমাদের নজরে আসে এই পরিবার।"
পরিবারের পটভূমি ও সংগ্রাম
এই পরিবারের বাসিন্দা মনুহর ও ফুল বানু দম্পতির আট সদস্যের মধ্যে পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে শুধু বড় মেয়ে সুস্থ, বাকি ছয় সন্তানই শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী সদস্যদের নাম হলো নুরুল ইসলাম (৪৩), তাজুল ইসলাম (৪১), জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৭), বিল্লাল হোসেন (৩৬), মো. আবদুর রব (৩৪) এবং রেহানা বেগম (২৫)। তারা সবাই সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করলেও ৬ থেকে ৭ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন।
দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারটি একটি ভাঙাচোরা কুড়ে ঘরে বাস করছিল, যেখানে নানা রোগ ও অর্থাভাবে চিকিৎসার অভাবে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। জেলা প্রশাসক এই অবস্থা জানার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং নতুন বাসস্থান নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, "শুধু আমরা নই, সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদেরও উচিত সরকারের পাশাপাশি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এগিয়ে আসা। আমরা ফরিদগঞ্জসহ পুরো জেলায় যেখানেই প্রতিবন্ধী ও অসহায় লোকজন রয়েছেন, সেখানে সহায়তা করতে প্রস্তুত।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
এই প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারকে সাহায্য করাই নয়, বরং সমাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য আশার আলো হিসেবে কাজ করছে। নতুন ভবনটি নির্মাণের মাধ্যমে পরিবারটির বসবাসের অবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা এই ধরনের আরও প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকবে, যাতে করে প্রতিবন্ধী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। এই উদ্যোগটি স্থানীয় সরকারের সেবামূলক কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।



