ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন ৪ দিন বন্ধ, মেরামতের জন্য বিকল্প সড়ক নির্ধারণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেন বন্ধ, মেরামতের সময় বিকল্প পথ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন চার দিন বন্ধ, মেরামতের জন্য নির্ধারিত সময়

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী জেলার রামপুর এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রামমুখী লেন আগামী ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। এই সময়ে রামপুর সেতুর জরুরি মেরামত কাজ পরিচালনা করা হবে বলে ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মেরামতের সময়সূচি ও যানবাহন চলাচলের নিয়ম

ফেনী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানিয়েছেন, ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেন দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এরপর ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেন দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল চালু রাখা হবে। এই পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যে ১৬ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

সুনীতি চাকমার দাবি, ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং ভারি যানবাহনের চলাচলও সীমিত পর্যায়ে থাকে। তাই এই সময়টিকে মেরামত কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিকল্প সড়ক হিসেবে শহরের ভেতর দিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও কোনো প্রকার যানজট বা যাত্রী ভোগান্তি হবে না বলে তার ধারণা।

বিকল্প সড়কের বিবরণ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ

সওজের ফেনী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেরামত কাজ চলাকালীন যানবাহন চলাচলের জন্য কয়েকটি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে। ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত কাজের অংশ হিসেবে ঢাকামুখী লেনকে দুই লেনে রূপান্তরিত করা হবে। তবে ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই স্থানে চট্টগ্রামমুখী এক লেনে যানবাহন চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হবে।

বিকল্প সড়ক হিসেবে নির্ধারিত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ফতেহপুর স্টার লাইন পাম্প হয়ে সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল মহাসড়ক
  • বিসিক মোড় হতে দেওয়ানগঞ্জ মোড়, সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল মহাসড়ক
  • মহিপাল এসএসকে রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল মহাসড়ক

সড়ক বিভাগ সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব বিকল্প পথের অধিকাংশই শহরের অভ্যন্তরীণ এলাকায় অবস্থিত এবং ভারি যানবাহনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে শহরের ভেতরে যানজট ও দুর্ভোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের মতামত ও সম্ভাব্য প্রভাব

পরিবহণ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঈদের আগে ও পরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট হিসেবে পরিচিত। বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন, তাই এই সময়ে লেন বন্ধ থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বিকল্প সড়কগুলো শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত হওয়ায় যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

সর্বোপরি, সওজ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী মেরামত কাজটি ঈদপরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, স্থানীয় পরিবহণ ব্যবস্থা ও যাত্রীসেবার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও কার্যকরী সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে যানবাহন চলাচলে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।