লোহাগাড়ায় টঙ্কাবতী নদীতে ২৩০ ফুট দীর্ঘ পদচারী সেতু উদ্বোধন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায় টঙ্কাবতী নদীর ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে নির্মিত একটি পদচারী সেতু গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই সেতুটি প্রায় ২৩০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং পাঁচ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট, যা লোহা, টিনশেড ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি আমিরাবাদ ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া ও মুহুরীপাড়াকে সংযুক্ত করেছে, যার ফলে প্রায় ১০টি পাড়ার অন্তত ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় উদ্যোগে সেতু নির্মাণের পেছনের গল্প
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে টঙ্কাবতী নদীটি পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে এবং খরস্রোতা প্রবাহের কারণে পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ সময় এলাকাবাসীকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে নদী পার হতে হতো। এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি থাকায় যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হতো মানুষকে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় কিছু সচেতন বাসিন্দা পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা হয় স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সাধারণ জনসাধারণের কাছ থেকে। অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন, যা সম্প্রদায়ের একতা ও সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মোট নির্মাণ খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা, এবং এটি অন্তত কয়েক বছর ধরে নদী পারাপারে সহায়তা করবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতাদের বক্তব্য
গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এলাকার মানুষ এক হয়ে কাজ করলে উন্নয়ন থেমে থাকবে না। এমন উন্নয়নমূলক কাজে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন যে আগের জনপ্রতিনিধিরা সুযোগ পেয়েও এই এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেননি, এবং ভবিষ্যতে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হবে।
স্থানীয় তরুণ নাসিম আল রাকিশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই নদী পারাপারে আগে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। এখন মজবুত ফুট ব্রিজ চালুর ফলে বাসিন্দারা খুবই উপকৃত হবেন। তাঁদের দুর্ভোগ কমবে।’ গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও কেউ তা বাস্তবায়ন করেননি, তাই শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেতুর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই পদচারী সেতুটি শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়ায়নি, বরং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সংযোগকেও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন যে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে, এবং সরকারি সহায়তায় একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে।
উপজেলা পর্যায়ে এমন স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগগুলি সম্প্রদায়ের সক্ষমতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।



