ঈদযাত্রায় গাজীপুরে ব্যাপক যানজট: ১২ কিলোমিটার মহাসড়কে থেমে থেমে যান চলাচল
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ঘরমুখো মানুষের চাপে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) দুপুরের দিকে চন্দ্রা বাস টার্মিনালের আশপাশের ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যান চলাচল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কারখানা ছুটির ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছে যাত্রী চাপ
শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে এবারের ঈদের ছুটি ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার দুপুরের পর প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ার কথা রয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছিল এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরও ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হবে।
গাজীপুরে ছোটবড় প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার পোশাক কারখানা বুধবার তৃতীয় ধাপে ছুটি ঘোষণা করবে। এই ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিকদের একসঙ্গে যাত্রা শুরু করায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
চন্দ্রা টার্মিনাল এলাকায় যানজটের মূল কারণসমূহ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত এলাকায় যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই যানজটের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী:
- মহাসড়ক ঘেঁষা কারখানাগুলোর সামনে বাস দাঁড় করিয়ে রাখা
- কারখানা শ্রমিকদের জন্য আগে থেকে রিজার্ভ করা অসংখ্য পরিবহণ
- ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বাসগুলোতে চন্দ্রা কেন্দ্রীক যাত্রী তোলার সুযোগ সীমিত থাকা
- চন্দ্রা এলাকায় আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘরমুখো মানুষের জমায়েত
যদিও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবুও যাত্রী ও যানবাহনের বিপুল চাপে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া
মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান মিয়া নামে এক শ্রমিক বলেন, "গতকাল আমার কারখানা ছুটি হয়েছে। তবে আমি গতকাল বের হয়নি, আজ সকালে রওনা হয়েছি। যানজট থাকলেও পরিবহণের সংকট নেই। ভাড়া কিছু পরিবহণ একটু বেশি চাচ্ছে, তবে সমস্যা নেই—দামাদামি করে যেকোনো একটি গাড়িতে বাড়ি চলে যাব।"
কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকা থেকে আসা নাসিমা আক্তার বলেন, "আমাদের কারখানা আজ ছুটি দিয়েছে। আগে থেকেই ব্যাগে প্রয়োজনীয় সব জিনিস গুছিয়ে নিয়ে বের হয়েছিলাম, কারখানা থেকে সোজা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। লম্বা ১০ দিনের একটা ছুটি পেয়েছি, সঙ্গে বেতন-বোনাসও পেয়েছি, তাই ঈদের আনন্দ পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়িতে যাচ্ছি।"
পুলিশের বক্তব্য ও ভবিষ্যত আশঙ্কা
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, "গতকাল হতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। আজ দুপুরের পর চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়বে। মহাসড়কের পাশে অসংখ্য গাড়ি বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা ভাড়া করে রেখেছেন, এর কারণেই চাপ সৃষ্টি হয়েছে।"
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের চাপও ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়নি, যা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিস্থিতির বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।
এই যানজট পরিস্থিতি কতটা সময় ধরে চলবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে কারখানা ছুটির ধারা অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
