ঈদ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ: পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা বিতরণ
ঈদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভাতা বিতরণ

ঈদ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ: পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা বিতরণ

ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক ভাতা বিতরণ করেছে। এই উদ্যোগটি শহরের সেবাদানকারী কর্মীদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভাতা বিতরণ

গত ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শহর কর্পোরেশন প্রশাসকদের হাতে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায়, ডিএসসিসি প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মঙ্গলবার নগর ভবনে দুটি পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ভাতা বিতরণ করেন।

পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য বরাদ্দ

ডিএসসিসির অধীনে মোট ৪,৯৫০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রত্যেকে ৪,০০০ টাকা করে পেয়েছেন, যা মোট ২.৪৭৫ কোটি টাকার সমান। অনুষ্ঠানে প্রশাসক সালাম ব্যক্তিগতভাবে কর্মীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাদের এই ঈদ উপহার দিয়েছেন, ঠিক তেমনি আপনার দায়িত্ব হলো আমাদের শহরকে ‘পরিষ্কার শহর, সবুজ শহর’ উপহার দেওয়া।’

ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ভাতা

অন্য একটি অনুষ্ঠানে, ডিএসসিসি নিজস্ব তহবিল থেকে ধর্মীয় ব্যক্তিদের ঈদ ভাতা বিতরণ করে। এতে ১,৮৭০ জন ইমাম প্রত্যেকে ৩,০০০ টাকা এবং ১,৮৭০ জন মুয়াজ্জিন প্রত্যেকে ১,৫০০ টাকা পেয়েছেন, যা মোট ৮৪.১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ নির্দেশ করে।

সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

শহর প্রশাসক সাম্প্রতিক একটি অনুষ্ঠানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ইমামদের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণে গণসচেতনতা তৈরিতে নেতৃত্ব দিতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি পরিষ্কার শহর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সহযোগিতা ও নির্দেশনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

এই অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিরুল ইসলাম, সচিব মোহাম্মদ নাসিম আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংস্থার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্যোগটি শহরের অবহেলিত শ্রমিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের সামাজিক স্বীকৃতি প্রদানের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ঈদের উৎসবকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।