রাঙ্গাবালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি উপজেলা প্রশাসনের
রাঙ্গাবালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন

রাঙ্গাবালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি উপজেলা প্রশাসনের

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভুঁঞা এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান সরেজমিনে পরিদর্শন চালিয়ে জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ীই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য

এলজিইডি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করে। প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. সাহিন দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগ সম্পূর্ণ অমূলক এবং প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ এলজিইডির কঠোর তত্ত্বাবধানে নিয়ম মেনেই এগিয়ে চলেছে।

পরিদর্শনের ফলাফল ও বিশ্লেষণ

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান ব্যাখ্যা করেছেন, এই সড়কটি পূর্বে এইচবিবি বা ইটের রাস্তা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। বর্তমান নির্মাণ কাজে নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো ইটগুলো প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত ঠিকাদার সেই নকশা অনুসারে কাজ করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে আমরা সরেজমিনে বিস্তারিত পরিদর্শন করেছি। রাস্তাটির পুরুত্ব, প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য সঠিকভাবে পরিমাপ করে দেখা গেছে যে সবকিছু নির্ধারিত মান অনুযায়ী রয়েছে। তাই আমাদের মূল্যায়নে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভুঁঞা বলেছেন, ‘সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে একটি অভিযোগ আমাদের দপ্তরে পৌঁছায়। এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করি। পরিদর্শনের সময় কয়েকটি কৌশলগত স্থানে নির্মাণকাজের মান যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো সঠিক নয় এবং প্রকল্পটি নিয়মমাফিক এগোচ্ছে।’

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কিছু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।