রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর উপাদানগুলো এখনও রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘হাসিনাকরণ’ বা ‘আওয়ামীকরণ’ বন্ধ না হলে কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত সুশাসন পাওয়া সম্ভব নয়।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা শহীদ ও পঙ্গু হয়েছেন। এই সংসদ সেই ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতীক।” জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পাশাপাশি যারা কারাবরণ করেছিলেন, তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, “আমরা নতুন করে একটি বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলাম, যেখানে রাজনৈতিক হানাহানি ও পেশি শক্তির পরিবর্তে পলিসি নির্ভর আলোচনা থাকবে। কিন্তু, আমরা এখনও সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই পাস করা হয়েছে।” সংসদকে কেবল আইন প্রণয়নের জায়গা হিসেবে নয়, বরং জনগণের পক্ষে সঠিক আইন তৈরির চর্চাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিয়ত সুপারিশ করতে হয়। এমনকি, হাসপাতালে সিট পাওয়ার জন্যও সুপারিশের প্রয়োজন পড়ে। যদি প্রশাসনিক ও সেবা খাতগুলো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে চলতো তবে মানুষের এই দুর্দশা থাকত না। সেবা খাতগুলোকে শক্তিশালী করে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে।”
নিজের বক্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এতে কারও প্ররোচনা নেওয়া উচিত নয়।” আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চক্রান্ত করে শরণার্থীদের ঢল নামানোর চেষ্টা চলছে। রোহিঙ্গা সংকটের মত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পুনরায় শরণার্থী পাঠানোর চক্রান্ত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু, শুকনো মৌসুমে সেখানে পানি থাকে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি দল বা বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে এক হতে হবে। দেশের স্বার্থে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ নাকচ করে দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে হবে।”
রাষ্ট্র কাঠামোর ঘুণে ধরা ব্যবস্থা সংস্কার করে গণঅভ্যুত্থানের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যারা এখানে আছি, তাদের মধ্যে নীতিগত ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশকে ধারণ করার ক্ষেত্রে কোনও পার্থক্য থাকবে না। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই সংসদে আসা আমাদের ওপর বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করেছে, সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।”



