ফ্লোরিডায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি পরিবারের
ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে তাঁদের পরিবার। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়েছে। লিমনের ভাই জোবায়ের আহমেদ দুই পরিবার থেকে পাঠানো ওই বিবৃতির বিষয়টি প্রথম আলোকে জানান।

মরদেহ ফেরত ও জানাজার দাবি

বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির মরদেহ শরিয়াহ মোতাবেক জানাজা ও দাফনে যেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সহযোগিতা করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আইনি প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত বা দুর্বল না হয়।

আবাসনের গাফিলতি ও নিরাপত্তা প্রশ্ন

যে অফ-ক্যাম্পাস আবাসন ‘অ্যাভালন হাইটসে’ এই ঘটনা ঘটেছে, তাদের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এনেছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়-নিবন্ধিত এই আবাসনে কোনো যাচাই ছাড়াই রুমমেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আগে সন্দেহভাজন হত্যাকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও স্মৃতিস্তম্ভের দাবি

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির ওপর বাংলাদেশে তাঁদের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তাই তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও আইনি সহায়তার পথ সুগম করার দাবি জানানো হয়েছে। দুই শিক্ষার্থীর স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য বিমা ও তদন্ত অগ্রগতি

এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, দুই শিক্ষার্থীরই স্বাস্থ্য বিমার অধীনে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যয় নির্বাহের সুবিধা রয়েছে। বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস রোববার জানিয়েছে যে তারা পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সরাসরি পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

ঘটনার বিবরণ

১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। বৃষ্টি পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। গত শুক্রবার ফ্লোরিডার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বৃষ্টির মরদেহের সন্ধান

অন্যদিকে বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা বে জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহের খোঁজে শনিবার উদ্ধারকারী দলগুলো স্যান্ড কি পার্ক এলাকায় তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করে। তদন্তকারীরা আগে এই এলাকাতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন। এখন মুঠোফোনের তথ্যসহ সাম্প্রতিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ও অভিযোগ

জামিল ও বৃষ্টির নিখোঁজ-মৃত্যুর ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের ২৬ বছরের এক মার্কিন যুবককে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে গতকাল। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যার এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে।