মশা নিয়ন্ত্রণ ও সবুজায়নে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো নির্দেশনা
রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকাকে ‘বর্জ্যের কারখানা’ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি।
সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অর্থসংকটের মুখ
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বিস্তারিতভাবে জানান, বিগত কয়েক মাসে আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ায় করপোরেশন চরম অর্থসংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, “বিগত প্রশাসন ঢালাওভাবে যেসব ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে গেছে, তার ভিত্তিতে কাজ করতে গেলে সিটি করপোরেশন অচল হয়ে পড়বে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করেছি।” প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়দেনার চাপ
উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন করপোরেশনের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের হাতে বর্তমানে মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে, অথচ প্রতি মাসে বেতন দিতেই লাগে ১৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বিগত প্রশাসক বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার ও ৩৪টি বিলে সই করে গেছেন। এই বিপুল দেনার মুখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” তবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা হতাশ নন এবং জনকল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা
সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা ধৈর্য ধরে শোনেন এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বর্ষার আগেই যেকোনো মূল্যে মশা নিয়ন্ত্রণে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করার জোরালো নির্দেশ দেন। ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বসবাসযোগ্য সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। এছাড়া ঢাকাকে বর্জ্যের স্তূপ থেকে মুক্ত করে দ্রুত আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশনাও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারও উপস্থিত ছিলেন এবং নিজ এলাকার সমস্যাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এই বৈঠকে শহরের উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হয়।
