খুলনায় বিশেষ যৌথ অভিযানে আরও ২৯ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
খুলনায় যৌথ অভিযানে আরও ২৯ জন গ্রেপ্তার

খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে যৌথ অভিযানে মোট ৪৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত

আজ খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা সদর থানায় ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ৬ জন, লবণচরা থানায় ৩ জন, হরিণটানা থানায় ১ জন, খালিশপুর থানায় ৫ জন, দৌলতপুর থানায় ২ জন, আড়ংঘাটা থানায় ২ জন এবং খানজাহান আলী থানায় ১ জন আছেন।

শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ভাই ও সহযোগী গ্রেপ্তার

অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর বড় ভাই মাহমুদুন রহমান চৌধুরী জনি (৪০), গ্রেনেড বাবুর অন্যতম সহযোগী রনি শেখ ওরফে কাবা (৩৪) এবং হরিণটানা থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমন (২৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রনি শেখ ওরফে কাবা দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, একটি হত্যাচেষ্টাসহ তিনটি মামলা আছে। সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ তাঁকে শেখপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় নগরের শামসুর রহমান রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেনেড বাবুর ভাই মাহমুদুন রহমান চৌধুরী জনিকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, গত ৪ মার্চ নগরের জনবহুল ডাকবাংলো এলাকায় রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাহমুদুনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলায় আসামি

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে মাহমুদুন রহমান চৌধুরীকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মাহমুদুন রহমান চৌধুরীকে ঘিরে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিএনপির সমর্থক ব্যবসায়ীদের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি খুলনা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন) ভবন দখল করে ১৩ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য না হয়েও পরে নিজেকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সন্ত্রাসী গ্রুপ ও হত্যাকাণ্ডের চিত্র

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে মহানগর পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল নজরদারি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম বেশি আলোচিত। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আছে গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন ‘বি-কোম্পানি’–কে ঘিরে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে এই গ্রুপের কয়েকজন সহযোগীসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতা কাজ করেছে।