হবিগঞ্জে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ

হবিগঞ্জে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত, দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি, যার ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

রেলওয়ে সূত্র থেকে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনটি মাধবপুরের মনতলা রেলস্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় এর ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি লাইনের পাশে অবস্থিত খাদে পড়ে যায়, যা দুর্ঘটনার তীব্রতা বৃদ্ধি করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট বিভাগের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ অবিলম্বে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উদ্ধার কাজ ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পর আখাউড়া থেকে বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, আর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার লিটন চন্দ্র দে বলেন, "দুর্ঘটনার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন। সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ছয়টায় ছাড়ার কথা থাকলেও, আজ সকাল নয়টায় সিলেট স্টেশন থেকে ছেড়ে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে আটকে আছে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস হরষপুর রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লুটপাটের চেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ

দুর্ঘটনার পর গত বুধবার রাতে আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। কিছু ব্যক্তি লাইনচ্যুত বগিগুলো থেকে জ্বালানি তেল লুট করার চেষ্টা করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে, দ্রুত খবর পেয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লুটপাট বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রভাব

এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র রেল যোগাযোগেই নয়, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের উপর জোর দিচ্ছে। যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে, কিন্তু এবারের ঘটনা বিশেষভাবে গুরুতর, কারণ এটি দীর্ঘ সময় ধরে রেল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অবকাঠামো নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।