পটুয়াখালীর বাউফলে জমি বিরোধে সংঘর্ষ: উজ্জ্বল কর্মকার নিহত, মামলা প্রক্রিয়াধীন
বাউফলে জমি বিরোধে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু, মামলা চলছে

পটুয়াখালীর বাউফলে জমি বিরোধে সংঘর্ষ: উজ্জ্বল কর্মকার নিহত

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে উজ্জ্বল কর্মকার (৪৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ফয়সাল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে স্থানীয় কৃষক ফিরোজ গাজী তরমুজ চাষ করছিলেন। মঙ্গলবার মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে ওই চরে গিয়ে জমি তার নিজের বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফিরোজ গাজীকে পিটিয়ে জখম করেন মিজানুর রহমান ও তার দলবল।

খবর পেয়ে ফিরোজ গাজীর আত্মীয়-স্বজন ওই চরে গিয়ে মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের আটক করে মারধর করেন। আহত অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিজানুর রহমানের সহযোগী উজ্জ্বল কর্মকারকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পক্ষগুলোর বক্তব্য

ফিরোজ গাজী অভিযোগ করে বলেন, "আমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। মিজান দলবল নিয়ে এসে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বেদম মারধর করে।"

অন্যদিকে, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, "ওই জমি আমার। আমার জমিতে জোরপূর্বক ফিরোজ গাজী তরমুজ চাষ করেছেন। মঙ্গলবার আমি জমিতে গেলে ফিরোজ গাজী দলবল নিয়ে আমাদের উপরে সশস্ত্র হামলা করে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জমি বিরোধের মতো বিষয়গুলো প্রায়শই গ্রামীণ এলাকায় সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করতে পারে।