খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পরও কোনো ইনফরমেশন যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি; ইন্সপেক্টরকে ঝুলায়ে দেবো, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’
মতবিনিময় সভার প্রেক্ষাপট
গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় এই মতবিনিময় সভা হয়। গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। তাদের হাতে খুন হয়েছে ৮৯ জন। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড় অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়েনি। এ জন্য ওই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ
সভায় উপস্থিত বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেওয়া হয়। যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়েনি।’
তিনি জানান, সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছিলেন। তখন কয়েকজন বলে ওঠেন তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়; আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওই কথা বলেছেন।
কেএমপি কর্মকর্তার ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা উন্নত করতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার বিকল্প নেই। জনগণ সহযোগিতা না করলে কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না। কিন্তু জনগণের বড় অভিযোগ আমাদের অফিসারদের দিকে। তাদের আশ্বস্ত করতে কিছু কথা বলেছি। সেগুলোকে কেটে অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি, তথ্য ফাঁস করলে কেউ নিস্তার পাবে না। তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। যাতে এতে তারা সতর্ক হয়ে যান।’



